জাতীয়

মাগুরার শ্রীপুরে ইয়াবাসহ আটক ২, মাদক বিক্রির অভিযোগে দোকানঘর উচ্ছেদ

তাসিফ জামানমাগুরা প্রতিনিধি ৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৫:০০ PM ৪৬০৮
মাগুরার শ্রীপুরে ইয়াবাসহ আটক ২, মাদক বিক্রির অভিযোগে দোকানঘর উচ্ছেদ

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার তখলপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করেছে স্থানীয় মাদক নির্মূল কমিটির যুব সদস্যরা। পরে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবাসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির অভিযোগ ওঠা একটি দোকানঘর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

মাদক নির্মূল কমিটি জানায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে ইয়াবা কিনে ফেরার সময় দুর্গাপুর ও রাজাপুর এলাকার দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে চার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—দুর্গাপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং রাজাপুর গ্রামের শরতের ছেলে মিথুন।

কমিটির সদস্যদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন তখলপুর এলাকার জনি জোয়ার্দার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ইয়াবা কেনার কথা জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে।

এদিকে জনি জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ ওঠার পর তার দোকানঘর উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় মাদক নির্মূল কমিটি।

রোববার সকালে তখলপুরে মাদক নির্মূল কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় বাসিন্দা, মাদক নির্মূল উপদেষ্টা কমিটি ও যুব কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে অভিযোগ ওঠা দোকানঘরটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে এলাকাবাসী গিয়ে দোকানঘরটি উচ্ছেদ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আফসার শেখ। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাসহ মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদক নির্মূল কমিটির যুব শাখার সদস্য সুজনুর রহমান বলেন, “কয়েকবার মাদক কারবারিদের হাতেনাতে আটক করা হলেও তাদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। মাদক নির্মূলে এলাকার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

আজাদ শেখ বলেন, “প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ গ্রামে কোনো মাদকসেবী বা মাদক কারবারিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

সভায় গ্রামের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রামের দোকানগুলো রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার কথা বলা হয়। তবে বিশেষ প্রয়োজনে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সুযোগ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি জুয়া ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, এলাকায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি মাদক নির্মূল কমিটির তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

সম্পর্কিত খবর