সারাদেশ

২১ দিনের মৃ/ত্যু*র সঙ্গে লড়াই, শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে তাজিম

তাসিফ জামানমাগুরা প্রতিনিধি ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৭:০৫ PM ৯৮৮৮
২১ দিনের মৃ/ত্যু*র সঙ্গে লড়াই, শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে তাজিম

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার টুপিপাড়া গ্রামের ছেলে তাজিম হোসেন। গত ৩১ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে বান্দরবান থেকে ফেরার পথে চলন্ত গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।

সড়ক দুর্ঘটনায় তাজিমের মাথা, কপাল ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগে। প্রথমে বান্দরবান ও পরে চট্টগ্রামে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে তাকে ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

দীর্ঘ ২১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত আর ফিরতে পারলেন না তাজিম। ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ ২১ দিন ধরে পরিবার, স্বজন ও বন্ধুরা অপেক্ষায় ছিলেন—তাজিম সুস্থ হয়ে আবার তাদের মাঝে ফিরে আসবেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার উন্নতির আশায় সবার মনে ছিল নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। কিন্তু সব আশা-প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেলেন তাজিম। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

তাজিমের বন্ধু উপন্যাশ বলেন, “আমি ভাবতে পারিনি তাজিম এত দ্রুত আমাদের ছেড়ে চলে যাবে। ভেবেছিলাম, ২১ দিন যেহেতু কেটে গেছে, তাহলে তাজিম সুস্থ হয়ে যাবে। কিন্তু আমার ভাবনা ভুল হলো। ওর অকাল মৃত্যু আমরা বন্ধুরা কেউ মেনে নিতে পারছি না।”

আরেক বন্ধু মিসকাত বলেন, “তাজিমের চিকিৎসার জন্য আমরা বন্ধুরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও সহযোগিতা পেয়েছি। আমাদের বন্ধুরা সবাই যার যার জায়গা থেকে কাজ করেছি। এর মধ্যে শৈশব, রাহুল, নাহিদ, তাছিফ, আকাশ, তারেক, আপন ও মুন অনেক বেশি পরিশ্রম করেছে। যারা তাজিমের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা চেয়েছিলাম তাজিম সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।”

শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের আরএসএল সাদাত স্যার বলেন, “তাজিম আমাদের ইউনিটের একজন দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী ও ভদ্র রোভার সদস্য ছিল। তার চিকিৎসার সময় আমরা সবাই তার সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তাজিমের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

তাজিমের মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘ ২১ দিনের লড়াই শেষে তার এই চলে যাওয়া স্বজনদের জন্য রেখে গেল অপূরণীয় শূন্যতা।

সম্পর্কিত খবর